টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক শনিবার (৫ জুলাই) ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। তিনি এই দলকে মার্কিন রাজনীতির ‘একদলীয় ব্যবস্থা’ বা ‘ইউনিপার্টি’র বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যিনি একসময় তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন।
ইলন মাস্ক ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণায় প্রায় ২৮০ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন এবং ট্রাম্পের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই)-র প্রধান হিসেবে সরকারি ব্যয় ও ফেডারেল চাকরি কমানোর প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে, ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নামক ৩.৪ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যয় পরিকল্পনা পাস হওয়ার পর মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কে ফাটল ধরে। মাস্ক এই বিলকে ‘ঋণের দাসত্ব’ এবং ‘অপচয় ও দুর্নীতি’র প্রতীক হিসেবে সমালোচনা করেন। মাস্ক এই বিলের পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ‘প্রতারক’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, “যারা সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট দিয়েছে, তাদের পরাজিত করা আমার শেষ লক্ষ্য হলেও তা নিশ্চিত করব।” ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, মাস্কের কোম্পানিগুলোর ফেডারেল সাবসিডি বন্ধ করা হতে পারে, তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হতে পারে।
মাস্ক তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি জরিপ পরিচালনা করেন ৪ জুলাই, মার্কিন স্বাধীনতা দিবসে, যেখানে তিনি ১.২ মিলিয়নের বেশি উত্তরদাতাকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনারা কি দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা থেকে স্বাধীনতা চান?” জরিপে ৬৫% উত্তরদাতা নতুন দল গঠনের পক্ষে ভোট দেন। এই ফলাফলকে ‘জনাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে মাস্ক শনিবার ঘোষণা দেন, “আজ আমেরিকা পার্টি গঠিত হয়েছে আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে।” তিনি একটি মিম শেয়ার করেন, যেখানে দুই-মাথাওয়ালা সাপের ছবির সঙ্গে ক্যাপশন ছিল, “একদলীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটাও।” মাস্ক বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে নয়, একদলীয় ব্যবস্থায় বাস করছি, যেখানে অপচয় ও দুর্নীতি দেশকে দেউলিয়া করছে।”
মাস্কের আমেরিকা পার্টি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কয়েকটি নির্দিষ্ট হাউস ও সিনেট আসনে ‘লেজার-ফোকাস’ কৌশলের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, “মাত্র ২-৩টি সিনেট আসন এবং ৮-১০টি হাউস জেলায় মনোযোগ দিয়ে আমরা কংগ্রেসে নির্ধারক ভোট হতে পারি।” তিনি প্রাচীন গ্রিক সেনাপতি এপামিনন্ডাসের লিউকট্রার যুদ্ধের কৌশলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা একদলীয় ব্যবস্থা ভাঙব।” দলটির মূল লক্ষ্য হলো সরকারি ব্যয় হ্রাস, দুর্নীতি দমন, এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তবে দলটির নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, বা আনুষ্ঠানিক নীতিমালা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-মাস্ক সম্পর্ক শেষ!
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) গত ১৬০ বছর ধরে প্রভাবশালী। তৃতীয় দলগুলো ঐতিহাসিকভাবে ইলেক্টোরাল কলেজ, কঠোর ব্যালট অ্যাকসেস আইন, এবং ‘উইনার-টেক-অল’ নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে টিকতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯২ সালে রস পেরোটের স্বাধীন প্রচারণা রিপাবলিকান ভোট ভাগ করে বিল ক্লিনটনের জয় নিশ্চিত করেছিল। একইভাবে, অ্যান্ড্রু ইয়াংয়ের ফরওয়ার্ড পার্টি বা নো লেবেলসের মতো সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাও টেকসই প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র মনে করে, আ
মেরিকা পার্টি রক্ষণশীল ভোট ভাগ করে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আমেরিকা পার্টির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মতভেদ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ মনে করেন, মাস্কের বিপুল সম্পদ, এক্স প্ল্যাটফর্মের প্রভাব, এবং স্বাধীন ও লিবার্টারিয়ান ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা তাকে একটি শক্তিশালী খেলোয়াড়ে পরিণত করতে পারে। অনেকেই সতর্ক করে বলেছেন, তৃতীয় দলের প্রচেষ্টা প্রায়ই ভোট ভাগ করে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। মাস্ক এখনও নিশ্চিত করেননি যে তিনি নিজে কোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা। তবে, তার আর্থিক শক্তি এবং জনপ্রিয়তার কারণে আমেরিকা পার্টি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সীমিত হলেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































