রিখটার স্কেলে ৬.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলকে তছনছ করেছে। ভূমিকম্পের ফলে বিপুল পরিমাণ ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, এতে কমপক্ষে ৬২২ জন নিহত এবং ১,৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং অনলাইন আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুধু কুনার প্রদেশেই নিহতের সংখ্যা কয়েক শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে আঘাত হানে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নাঙ্গারহার প্রদেশের জালালাবাদ শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার (১৭ মাইল) দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর এই ভূমিকম্পের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাব কাবুল থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং ভারতের দিল্লি পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।
কুনার প্রদেশের নুর গুল, সোকি, ওয়াতপুর, মানোগি এবং চাপাদারে জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তালেবান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান জানিয়েছেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজ চ্যালেঞ্জিং। অনেক এলাকায় এখনো হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।”
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে ভূমিধস এবং বন্যার কারণে সড়কপথ বন্ধ থাকায় উদ্ধারকাজে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় কেবল হেলিকপ্টারের মাধ্যমেই পৌঁছানো সম্ভব। নাঙ্গারহার বিমানবন্দর থেকে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা রক্তদানে এগিয়ে এসেছেন।
তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর কাছে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন এবং আফগান রেড ক্রিসেন্ট ইতিমধ্যে জরুরি সহায়তা প্রদান শুরু করেছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা উদ্ধারকাজকে জটিল করে তুলেছে।
ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে ১৩টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে দুটির মাত্রা ছিল ৫.২। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা রাতভর ঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। নাঙ্গারহারের ২৮ বছর বয়সী বাসিন্দা পোলাদ নূরি বলেন, “আমার জীবনে এত ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখিনি। পরাঘাতের ভয়ে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।”
আরও পড়ুন: ইসরাইলের জন্য আকাশসীমা ও বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা তুরস্কের
আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালার কাছে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে দেশটি প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। ২০২৩ সালে হেরাত প্রদেশে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হয়েছিল। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, “স্থানীয় কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত। আমরা সব সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করছি।”
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এই দুর্যোগে আফগানিস্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আফগান জনগণের প্রতি আমাদের সমর্থন ও সংহতি রয়েছে। ভারত এই দুঃসময়ে সহায়তা প্রদান করবে।”













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































