মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। এতে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে তারা। বিশেষ করে ২৫তম দফা অভিযানে ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসনিক এবং ‘এমাদ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযানে হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ঘটেছে, যা শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার (৩ হাজার ৮৩৬ মাইল)। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আটকানো অত্যন্ত কঠিন, কারণ এরা মাঝ আকাশে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম। ইরান দাবি করেছে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের প্রতিক্রিয়া।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই পদক্ষেপ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের পর ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর অধীনে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরসহ উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে। গাল্ফ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি যেমন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবে অবস্থিত স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো প্রচলিত ইন্টারসেপ্টর যেমন ইসরায়েলের আয়রন ডোম বা মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ‘ফাত্তাহ’ সিরিজ (ফাত্তাহ-১ ও ফাত্তাহ-২) ২০২৩ সালে উন্মোচিত হয়েছে। এর পাল্লা ১,৪০০-১,৫০০ কিলোমিটার, ওয়ারহেড ২০০-৫০০ কেজি। গতি ম্যাক ১৫ পর্যন্ত। সামরিক সাময়িকী ‘মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন’ দাবি করেছে, গত মার্চের শুরু থেকে অন্তত তিনটি সফল আঘাত ইসরায়েলি লক্ষ্যে হেনেছে এই ক্ষেপণাস্ত্র।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































