আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন কানাডার কানানাস্কিস, আলবার্টায় অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে। গত ছয় বছরে এই প্রথমবার মোদি জি-৭ সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকবেন, যা ভারত-কানাডা সম্পর্কের বর্তমান টানাপড়েন এবং কূটনৈতিক দূরত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জি-৭ হলো বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশগুলোর একটি অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী, যার সদস্য হলো ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ এই সম্মেলনে অংশ নেয়। ভারত ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর জি-৭ সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে আসছে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রভাবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রাজিলের নেতারা ইতিমধ্যে কানাডার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে, ভারত এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি। সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিতে আগ্রহী নয়। এমনকি শেষ মুহূর্তে আমন্ত্রণ এলেও লজিস্টিক জটিলতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত তা গ্রহণ নাও করতে পারে।
ভারত-কানাডা সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে, ২০২৩ সালের জুনে কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারত সরকারের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন, যা ভারত “অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার পর দুই দেশ পরস্পরের কূটনীতিক বহিষ্কার করে, যা সম্পর্ককে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যায়।
কানাডার শিখ সংগঠনগুলো সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের কাছে মোদিকে আমন্ত্রণ না জানানোর আহ্বান জানিয়েছে, দাবি করে যে ভারত নিজ্জার হত্যার তদন্তে সহযোগিতা করছে না। নতুন কানাডীয় সরকার সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মাসে দুইবার জানিয়েছে যে মোদির কানাডা সফরের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোদির এই অনুপস্থিতি শুধু আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয় নয়, বরং ভারত-কানাডা সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস এবং কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত। কানাডার এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমিত সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। গত বছর দিল্লির জি-২০ সম্মেলনে ভারতের সফল আয়োজন এবং মোদির আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় উপস্থিতি বিবেচনায়, এই অনুপস্থিতি কূটনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































