সিরিয়া ও ইসরাইল একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়ার জন্য বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তিনি জানান, তুরস্ক, জর্ডান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সমর্থনে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত বুধবার (১৬ জুলাই) ইসরাইল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এবং দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ইসরাইল দাবি করেছে, সিরিয়ার সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষার উদ্দেশ্যে তারা এই হামলা চালিয়েছে। হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং সরকারি ভবনে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সেদিন রাতে এক টেলিভিশন ভাষণে ইসরাইলের এই হামলাকে ‘সিরিয়ার জনগণকে বিভক্ত করার’ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন এবং সুয়াইদা অঞ্চল থেকে সিরিয়ার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সুয়াইদা অঞ্চলে সম্প্রতি দ্রুজ ও বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ২৫৪ জন নিহত এবং প্রায় ৮০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সংঘর্ষে সরকারি বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে ইসরাইল সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
টম ব্যারাক এক্সে এক পোস্টে বলেন, “ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে, তুরস্ক, জর্ডান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর দ্বারা গৃহীত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন।” তিনি দ্রুজ, বেদুইন ও সুন্নি সম্প্রদায়ের প্রতি অস্ত্র ত্যাগ করে অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে মিলে একটি ‘ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া’ গঠনের আহ্বান জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার রাতে বলেন, “সংঘাতের সব পক্ষ এই উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতির অবসানে নির্দিষ্ট পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে।” তিনি শুক্রবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিদেশি নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করবে না
ইসরাইল ও সিরিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটনে ইসরাইলি দূতাবাস ও কানাডায় সিরিয়ার কনস্যুলেট এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রাক্তন ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আমোস ইয়াদলিন সিএনএন-এর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তুরস্ক, জর্ডান ও ইসরাইলের সম্পৃক্ততা অর্থবহ। তবে মাঠ পর্যায়ে সংঘর্ষ বন্ধ হবে কিনা, তা নির্ভর করছে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর আচরণের ওপর।”
ইসরাইল সুয়াইদা অঞ্চলকে সামরিক মুক্ত অঞ্চল হিসেবে রাখার দাবি জানিয়েছে এবং সিরিয়ার সেনা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে। অন্যদিকে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারা গোলান মালভূমি থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































