পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্রমন্ত্রী-মুহাম্মদ-ইসহাক-দার-newsedge4

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দার তিন দিনের সরকারি সফরে ২৩ আগস্ট ২০২৫ শনিবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। এটি গত ১৩ বছরে কোনো শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানি নেতার প্রথম ঢাকা সফর, যাকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইসহাক দারকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি শনিবার দুপুর ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। সফরের সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ কার্যগোষ্ঠী গঠনের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং পাকিস্তানের ফ্লাই জিন্নাহ ও এয়ার সিয়ালের মতো কম খরচের এয়ারলাইনগুলো বাংলাদেশে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার অনুমোদন পেয়েছে।
  • ভিসামুক্ত ভ্রমণ: দুই দেশের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ চুক্তি সই হতে পারে। এটি ইতিমধ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মধ্যে আলোচনায় চূড়ান্ত হয়েছে।
  • ১৯৭১ সালের গণহত্যা: বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবে। এছাড়া, বিভক্তির পূর্বের সম্পদের ন্যায্য অংশ (৪.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ তহবিল হস্তান্তরের বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।

আরও পড়ুন: সিন্ধু নদীর পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, “প্রতিটি বিষয় আলোচনার টেবিলে থাকবে।” তিনি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক মনোভাব দেখতে পাচ্ছেন।

ইসহাক দারের সফরে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন। এই সফরে বাণিজ্য, সংস্কৃতি, মিডিয়া, প্রশিক্ষণ এবং ভ্রমণ বিষয়ে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *