থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন-paetongtarn shinawatra-newsedge24

থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত আজ শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে তার পদ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিয়েছে। কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে তার একটি ফাঁস হওয়া ফোনকলের কারণে গত জুলাইয়ে তার পদ স্থগিত করা হয়েছিল। এবার আদালতের চূড়ান্ত রায়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দেশটির প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কন্যা। কিন্তু মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পরই তিনি ক্ষমতাচ্যুত হলেন।

গত ১৫ জুন কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে পেতোংতার্নের একটি ফোনকল ফাঁস হয়, যা ভাইরাল হয়ে যায়। এই কথোপকথনে তিনি হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করেন এবং থাই সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডারের সমালোচনা করে বলেন, তার সেনাদের কারণে কম্বোডিয়ার একজন সেনার প্রাণ গেছে। তিনি আরও বলেন, “যে কোনো কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।” এই বক্তব্য দেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযোগ ওঠে যে, পেতোংতার্ন গোপনে থাইল্যান্ডের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। এরপর ৩৬ জন সিনেটর তার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন, তাকে অসৎ আচরণ এবং নৈতিক মান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে।

আদালতের নয়জন বিচারকের প্যানেল রায় দেয় যে, পেতোংতার্নের ফোনকল “জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করেছে” এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নৈতিক মান “গুরুতরভাবে লঙ্ঘন” করেছেন। এর ফলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়। পেতোংতার্ন আদালতের রায় মেনে নিয়ে বলেন, তিনি কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে এবং জীবন বাঁচাতে এই কথোপকথনের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তবে, তার এই ব্যাখ্যা সমালোচনার ঝড় থামাতে পারেনি।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সাময়িক বরখাস্ত

থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সাংবিধানিক আদালতের ভূমিকা বিতর্কিত। সমালোচকরা এটিকে সামরিক বাহিনী ও রাজতন্ত্রের সমর্থক হিসেবে দেখেন। গত দুই দশকে এই আদালত একাধিক প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলকে ভেঙে দিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে পেতোংতার্নের পূর্বসূরি প্রধানমন্ত্রী শ্রেত্থা থাভিসিনকে একটি নৈতিক লঙ্ঘনের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া, ২০২৪ সালের আগস্টে বিরোধী দল মুভ ফরওয়ার্ড পার্টি ভেঙে দেওয়া হয় এবং এর নেতা পিতা লিমজারোয়েনরাতকে ১০ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *