গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাস সাতজন ইসরাইলি জিম্মিকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (ICRC) কাছে হস্তান্তর করেছে। আরও ১৩ জনের মুক্তির প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের কারাগার থেকে প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আম্মান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নূর ওদেহ জানান, “আমরা নিশ্চিত তথ্য পেয়েছি যে হামাসের হাতে থাকা প্রথম সাত ইসরাইলি জিম্মিকে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত হবেন।” এই জিম্মিরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় বন্দী হয়েছিলেন।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মুক্তিকে “শান্তির দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, “গাজায় যুদ্ধ শেষ হয়েছে।” চুক্তির প্রথম ধাপে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরাইলি জিম্মি মুক্ত করবে, যার মধ্যে শিশু, নারী, বয়স্ক এবং আহত ব্যক্তিরা রয়েছেন। বিনিময়ে ইসরাইল ১,৭১৮ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি দেবে, যাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কারারুদ্ধ এবং যুদ্ধকালীন গ্রেপ্তারকৃতরা অন্তর্ভুক্ত।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী (IDF) জানিয়েছে, এই সাত জিম্মিকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে প্রাথমিক রিসেপশন পয়েন্টে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কালাস এই ঘটনাকে “শান্তির দিকে একটি মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেছেন এবং ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গাজায় ত্রাণ প্রবেশ শুরু
দুই বছরের এই যুদ্ধে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী ৬৭,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। চুক্তির অধীনে ইসরাইলি সেনারা গাজা থেকে আংশিক প্রত্যাহার করবে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ বাড়বে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































