দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপড়েন কাটিয়ে নতুন করে আস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তীকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে নয়াদিল্লি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা–নয়াদিল্লি সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার আলোকে অভিজ্ঞ কূটনীতিককে ঢাকায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। এই প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
সন্দীপ চক্রবর্তী বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় তার সক্রিয় ভূমিকা ভারতীয় পররাষ্ট্র নীতিতে তাকে একজন আস্থাভাজন কূটনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তার সম্ভাব্য নিয়োগকে দেখা হচ্ছে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে।
ঢাকা–নয়াদিল্লি সম্পর্ক গত কয়েক বছরে নানা ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্য, পানিবণ্টন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে সম্পর্কের ভেতরে কিছুটা শীতলতা তৈরি হয়। তবে দুই দেশই প্রকাশ্যে বারবার জানিয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সম্পর্ক জোরদার রাখা অপরিহার্য।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় এমন একজন হাইকমিশনার প্রয়োজন, যিনি শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনীতি নয়, বরং আস্থা তৈরির নীরব প্রক্রিয়াতেও দক্ষ হবেন। সন্দীপ চক্রবর্তীর অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি সেই জায়গায় মানানসই বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চীনসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সক্রিয় উপস্থিতির মধ্যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে আগ্রহী। ফলে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেবল কূটনৈতিক রুটিন নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের পদটি বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। এই পদে থাকা কূটনীতিককে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—সব মাত্রায় সক্রিয় থাকতে হয়। ফলে সম্ভাব্য নতুন নিয়োগের দিকে তাকিয়ে আছে কূটনৈতিক মহল, নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকেরা।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































