হরমুজ প্রণালি-hormuz strait-newsedge24

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ যেতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বুধবার (১১ মার্চ) তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই চরম হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমা মিত্রদের যে কোনো ট্যাঙ্কার এখন থেকে ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা এবার এক নতুন এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মোড় নিল। এতদিন ইরানের রণকৌশল মূলত ‘প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা’র বৃত্তে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন থেকে তেহরান ‘আঘাতের বদলে সরাসরি আঘাত’  নীতি গ্রহণ করেছে। বুধবারের বিবৃতিতে ইব্রাহিম জোলফাগারি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় পশ্চিম ও তাদের মিত্রদের সতর্ক করেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জোলফাগারি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ইরানের সহ্যশক্তির পরীক্ষা নেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা আর কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখাব না। এখন থেকে আমাদের নীতি হবে সরাসরি আক্রমণ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগীদের জন্য নির্ধারিত কোনো জ্বালানি ট্যাঙ্কার পার হতে দেওয়া হবে না।”

ইরানের এই হুমকির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। জোলফাগারি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।” তার মতে, জ্বালানির বাজারমূল্য সরাসরি এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু পশ্চিমা শক্তিগুলো এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে, তাই এর মূল্য তাদের চড়া দাম দিয়েই মেটাতে হবে।

আরও পড়ুন:  ইরানের মাইন স্থাপনকারী ১৬টি নৌযান ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া বা সেখানে নিয়মিত হামলা হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ব বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এমনটি ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *