বিমান-ইরানের আকাশসীমা-newsedge24

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহ থেকে করাচি আসার পথে ৫ জন ক্রু সদস্যসহ পাকিস্তানের একটি মালবাহী কার্গো বিমান করাচি উপকূলের অদূরে আরব সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের (এটিসি) সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই খবর নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, আরব সাগরে ইতিমধ্যেই জরুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

করাচিভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘কে২ এয়ারওয়েজ’ দ্বারা পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি শারজাহ থেকে করাচি আসছিল। রাত ৯:১৮ মিনিটে বিমানটির নেভিগেশন সিস্টেমে (গতিপথ নির্ধারণকারী ব্যবস্থা) সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা এটিসি-কে জানান পাইলট। রাত ৯:২১ মিনিটে রাডার ডাটা অনুযায়ী, বিমানটি হঠাৎ তার গতিপথ পরিবর্তন করে এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচে নামতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে রাডার ও রেডিওর সাথে এর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিমানচালনা বিশেষজ্ঞ ইমরান আসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিমানটির রাডার থেকে এভাবে আকস্মিক হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ রহস্যজনক। কারণ ইঞ্জিনে কোনো যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলেও বিমানটি সাধারণত বাতাসে কিছুটা সময় ভেসে থাকার (গ্লাইডিং) কথা, এভাবে হঠাৎ খাড়া নিচের দিকে পড়ে যাওয়ার কথা নয়।

নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস জুলফিকার’-কে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর একটি এটিআর (ATR) বিমান এই অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতের পুনেতে ভয়াবহ ভূমিধস

এই ঘটনাটি ২০২০ সালের মে মাসে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় করাচি বিমানবন্দরের কাছে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯৭ জন মারা গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তদন্তে দেখা যায়, সেই দুর্ঘটনার পেছনে পাইলট এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মানবত্রুটি (হিউম্যান এরর) দায়ী ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *