নেপালে গত বুধবারের আকস্মিক বন্যা যেন থামছেই না তার ধ্বংসলীলা। নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ একের পর এক মিলছে দূরবর্তী জেলাগুলোয়, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। শুক্রবার নেপাল পুলিশের সবশেষ হিসাবে, বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৭ জনে, আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এর কিছুক্ষণ আগেই নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ৫৩৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরে পুলিশের পৃথক হিসাবে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪৭-এ।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে বর্তমানে মাঠে নেমেছেন ৪ হাজার ৪৭৩ জন পুলিশ সদস্য, জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
দূরের জেলায় ভেসে গেছে অসংখ্য মরদেহ
বুধবারের আকস্মিক বন্যায় প্রবল স্রোতের তোড়ে বহু মরদেহ ভেসে চলে গেছে বহু দূরের জেলাগুলোতে। এতে নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে চিতওয়ান জেলা থেকেই উদ্ধার হয়েছে ২২১টি মরদেহ। এ ছাড়া কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নওয়ালপরাসি পূর্ব এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ১৩৪টি মরদেহ।
চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আরিয়াল বিবিসিকে বলেন, উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের অবস্থা ভালো নেই, ফলে সেগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের মর্গগুলোয় জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
নতুন বন্যার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক সহায়তা
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) জানিয়েছে, গত বুধবারের এই ভয়াবহ বন্যায় নেপালে আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংস্থাটির নেপাল প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার জানান, নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
এক বিবৃতিতে আইএফআরসি জানায়, জরুরি সহায়তার জন্য তারা প্রায় আড়াই কোটি সুইস ফ্রাঁ (আনুমানিক ২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বা ৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার) তহবিল সংগ্রহের আবেদন জানিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি তার বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বিধ্বস্ত অবকাঠামো, প্রবল স্রোত ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের মধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, পাশাপাশি সামলাতে হচ্ছে নতুন বন্যার শঙ্কা এবং বিপুলসংখ্যক মরদেহ শনাক্তকরণের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































