পাকিস্তান দাবি করেছে, ২৯-৩০ এপ্রিল রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) চারটি রাফায়েল যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছাকাছি ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের আকাশসীমায় টহল দিচ্ছিল। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) দ্রুত পদক্ষেপের কারণে এই বিমানগুলো পিছু হটতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিপি জানিয়েছে, পিএএফের তৎপরতায় ভারতীয় বিমানগুলো “বিভ্রান্ত ও তাড়াহুড়ো করে” ফিরে যায়।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি, “বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য” অনুযায়ী ভারত আগামী ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে, পেহেলগাম হামলাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি ভারতের “বিচারক, জুরি ও জল্লাদের” ভূমিকা নাকচ করে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় “প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও দৃঢ়” প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, পিএএফ ভারতের যেকোনো “আগ্রাসনের” জবাব দিতে প্রস্তুত। এদিকে, পাকিস্তান সমর্থিত কিছু সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট মিথ্যাভাবে দাবি করেছে যে, পিএএফ কাশ্মীরের পুঞ্চে একটি ভারতীয় রাফায়েল বিমান ভূপাতিত করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই দাবিকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
পেহেলগাম হামলার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৪ এপ্রিল থেকে “অক্রমণ” নামে একটি বৃহৎ সামরিক মহড়া শুরু করেছে, যাতে রাফায়েল, সু-৩০ এমকেআই, মিগ-২১, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং গরুড কমান্ডোরা অংশ নিয়েছে। এই মহড়াকে পাকিস্তানের প্রতি “কঠোর সতর্কবার্তা” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, রাফায়েল বিমানগুলো পেহেলগাম হামলার পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে টহল জোরদার করেছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর রাফায়েল জেট, মিটিওর এবং স্কাল্প মিসাইল দিয়ে সজ্জিত, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ এবং পিএল-১৫ মিসাইলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা রাখে। মিটিওর মিসাইলের ১৫০-২০০ কিমি রেঞ্জ এবং বৃহৎ “নো-এস্কেপ জোন” পাকিস্তানের বিমানকে দূর থেকে নিশানা করার ক্ষমতা দেয়।
পাকিস্তান সম্প্রতি তার জেএফ-১৭ ব্লক III জেটে চীনের পিএল-১৫ লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল সংযোজন করেছে, যার রেঞ্জ ১৪৫-২০০ কিমি। এটি পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর দূরপাল্লার যুদ্ধ ক্ষমতা বাড়ালেও, ভারতের রাফায়েল-মিটিওর কম্বিনেশনের তুলনায় এটি প্রযুক্তিগতভাবে কম উন্নত। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর মোট ১৮টি স্কোয়াড্রন রয়েছে, যেখানে ভারতের ৩১টি।
নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি ভারতীয় রাফায়েল জেটের টহল এবং পাকিস্তানের পাল্টা পদক্ষেপ পেহেলগাম হামলার পর দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিফলন। পাকিস্তানের দাবি সত্ত্বেও, ভারতীয় বিমানগুলো তাদের আকাশসীমার মধ্যেই ছিল এবং কোনো সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে, উভয় দেশের সামরিক প্রস্তুতি, চুক্তি স্থগিতকরণ, এবং পালটাপালটি অভিযোগ দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































