পহেলগাঁও সন্ত্রাস হামলা এবং এর জেরে ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত তিন বছর ধরে শূন্য থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ আসিম মালিককে নিয়োগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) সূত্রে পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মালিক আইএসআই প্রধানের দায়িত্বের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ আসিম মালিক এইচআই (এম), ডিজি (আই), অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।” এটি পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবার যে একজন বর্তমান আইএসআই প্রধান এনএসএ পদে নিয়োগ পেলেন, এবং তিনি দেশটির দশম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২১ সালের মে মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কূটনীতিবিদ মঈন ইউসুফকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের পতনের পর থেকে এই পদটি শূন্য ছিল। পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মালিকের নিয়োগকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামরিক প্রতিক্রিয়া সমন্বয় এবং সম্ভাব্য গোপন কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মালিক ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইএসআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থ এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অফ ডিফেন্স স্টাডিজ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মতো অশান্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই নিয়োগের সময় পাকিস্তান সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা তাঁর দ্বৈত ভূমিকাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে উভয় দেশকে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, এবং ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী পহেলগাঁও হামলার চার সন্ত্রাসীকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। ২০২১ সালে নবায়ন করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন ভঙ্গুর অবস্থায়, এবং লাইন অফ কন্ট্রোল এবং জম্মু অঞ্চলের আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিয়মিত গোলাগুলি চলছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































