রণধীর জয়সওয়াল-newsedge24

ভারত বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি উঠে আসে। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে হবে।”

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার সাংবিধানিক ও নির্বাচনী সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করেছে এবং ২০২৫ সালের শেষ বা ২০২৬ সালের শুরুতে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে, যখন ছাত্র আন্দোলনকারী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলামের মতো কিছু গ্রুপ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছে।

ভারতের এই আহ্বান এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়, যেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪১.৮%, আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে অভিহিত করেছে। ভারত, তবে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যা ভারতের নিরাপত্তা ও ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার সম্পন্ন করা প্রয়োজন। তবে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে মত দিচ্ছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভারতের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে, যদিও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক এখনও অমীমাংসিত।বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ঢাকার দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *