সোমবার (২৩ জুন ২০২৫) তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি” ঘোষণা করেন, যা বিশ্বকে অবাক করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি ইরানের ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহানে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বি২ বোমারু বিমান দিয়ে বাংকার-বিধ্বংসী বোমা হামলা চালান। এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পিছিয়ে দেওয়া এবং মিত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্পের হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৬০% পর্যন্ত) হামলার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলেছিল। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, ফরদোর ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজ হলের ক্ষতি হলেও তেজস্ক্রিয় পদার্থের ফুটো হয়নি।
ইরান ও ইসরায়েল গত ১২ দিন ধরে একে অপরের ভূখণ্ডে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছিল। ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে কাতারে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে, যা হতাহতবিহীন ছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান পূর্ণমাত্রার সংঘাত এড়াতে চায়।
ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ’-এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং ইসরায়েলকে আর হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। ইরানের একজন কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরায়েল হামলা না থামালে সংঘাত বন্ধ হবে না।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তাঁর “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” নীতির প্রতিফলন। তিনি ইরানের উপর সামরিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করেছেন। কাতার এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ জনাথন প্যানিকফ বলেন, “ইসরায়েল তাদের সামরিক লক্ষ্যের বেশিরভাগ পূরণ করেছে, আর ইরান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছিল।” তবে, যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী, পারমাণবিক আলোচনার সম্ভাবনা, এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
ঝুঁকি ও সম্ভাবনা
- যুদ্ধবিরতির টেকসইতা: ডেনিস রসের মতে, ইরান বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন অনুভব করছে। তবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আলোচনা না হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হতে পারে।
- ইরানের প্রতিক্রিয়া: ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা বা তাদের মিত্র গোষ্ঠী (হিজবুল্লাহ, হুথি) দিয়ে হামলা চালানোর মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
- অভ্যন্তরীণ চাপ: ট্রাম্পের হামলার সিদ্ধান্ত রিপাবলিকান পার্টির যুদ্ধবিরোধী অংশ এবং ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে, যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলে তিনি তাঁর সমালোচকদের জবাব দিতে পারবেন।
ট্রাম্পের ইরান হামলা ও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি করেছে, তবে তা টেকসই হবে কিনা নির্ভর করছে ইরান ও ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতির উপর। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো প্রধান বাধা। যদি ট্রাম্প এই সংকট সমাধানে সফল হন, তবে তিনি তাঁর পররাষ্ট্রনীতির একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































