থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতারা সীমান্ত বিরোধ নিরসনে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আলোচনায় বসেছেন। সোমবার (২৮ জুলাই, ২০২৫) মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন ও চীনা রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকটি পরিচালনা করছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম। আসিয়ান জোটের বর্তমান চেয়ার হিসেবে মালয়েশিয়া প্রতিবেশী দুই দেশের সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বহু বছর ধরে বিরোধ চলছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে প্রিহা ভিহার এবং তা মুয়ান থমের মতো ঐতিহাসিক খেমার মন্দিরের মালিকানা। ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) প্রিহা ভিহার মন্দিরের মালিকানা কম্বোডিয়ার পক্ষে রায় দিলেও, সীমান্তের আশপাশের অঞ্চল নিয়ে বিরোধ অমীমাংসিত রয়েছে।
গত মে মাসে থাইল্যান্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে কম্বোডিয়ার একজন সেনা নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই, ২০২৫) থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে বিবেচিত। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক। উভয় দেশ সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে, যা থাইল্যান্ডের জোট সরকারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, এবং চীনও এতে অংশ নিচ্ছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, তিনি হুন মানেত এবং থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, এবং দুই দেশই যুদ্ধবিরতির জন্য সম্মত হয়েছে। তবে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও রোববার (২৭ জুলাই) রাতভর এবং সোমবার সকালে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পরও থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাত অব্যাহত
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার শান্তি আলোচনা পর্যবেক্ষণের জন্য মালয়েশিয়ায় প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, বেইজিং উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চায়। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, কানাডা, সিঙ্গাপুর, এবং ফিলিপাইন সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































