জয়শাঙ্কার-newsedge24

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্পের নীতিকে অভূতপূর্ব এবং ঐতিহ্যবাহী কূটনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত বলে অভিহিত করেছেন। নীচে তার সমালোচনার মূল বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

২৩ আগস্ট ২০২৫ শনিবার, ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তৃতাকালে জয়শঙ্কর বলেন, “বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো নীতি নেননি অতীতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট।” তিনি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘অভূতপূর্ব’ এবং বিশ্বের সঙ্গে তাঁর আচরণের ধরনকে ঐতিহ্যবাহী কূটনীতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্পের বিশ্ব এবং নিজ দেশের প্রতি আচরণের ধরন ঐতিহ্যবাহী কূটনীতির থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত।”

শুল্কযুদ্ধের সমালোচনা

ট্রাম্পের ‘শুল্কযুদ্ধ’ নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, এই নীতি শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা বিশ্বের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তিনি জানান, ভারত এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না যা দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থের উপর আঘাত হানে। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের শুল্কবাণের জবাবে ভারতের নীতি খুব স্পষ্ট। কোনোভাবে ভারতবাসীর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়, কৃষক-মজুরের স্বার্থে আঘাত লাগে এমন কাজ ভারত করবে না।”

২২ আগস্ট ২০২৫ শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ক্রয়ের কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, যা তিনি ‘যুক্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “রুশ তেলের বৃহত্তম ক্রেতা চীন, আর রুশ গ্যাসের বৃহত্তম ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য লাফিয়ে বাড়েনি। ঘটনাচক্রে আমরা আমেরিকা থেকেও তেল কিনি, সেই পরিমাণও বেড়েছে। তাই মার্কিন মিডিয়ার যুক্তি খুবই অগোছালো, ভুলভাল।”

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ভারতের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত শত্রুতা’ এবং এটি পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনের নীতির বিপরীত। এই পদক্ষেপ ভারত-মার্কিন সম্পর্কের কৌশলগত অংশীদারিত্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল আমদানি করবে ভারত

জয়শঙ্কর ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি খারিজ করে বলেন, “১৯৭০ সাল থেকে ভারতের একটি নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা কারও মধ্যস্থতা গ্রহণ করি না।” তিনি স্পষ্ট করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফোনালাপ হয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের কোনো মধ্যস্থতা ছিল না। তিনি বলেন, “১০ মে বিকেলে পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স ভারতের সমপদস্থ কর্মকর্তাকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন।” ট্রাম্পের দাবি তিনি বারবার খারিজ করেছেন, এবং এটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ভারতের উপর শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়ার তেল ক্রয়ের বিষয়ে তাঁর অবস্থান, ভারত-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জয়শঙ্করের মতে, ট্রাম্পের এই নীতি শুধু ভারত নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত তার ‘কৌশলগত স্বাধীনতা’ বজায় রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *