গণহত্যা-গাজা-ইসরায়েল-জাতিসংঘ-newsedge24

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়নি। জাতিসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলি অফিসকে লিখিতভাবে কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। প্রতিযোগী দেশ ফিলিস্তিন বা সাইপ্রাসকে অথবা যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে ইতিমধ্যে ভোট চাওয়া হয়েছে, তাদেরকেও লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন সূত্রে জানা গেছে, এই পদে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি আগামী নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি প্রতি বছর পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে ঘুরে ঘুরে নির্ধারিত হয়: আফ্রিকান গ্রুপ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ, পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় গ্রুপ এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের গ্রুপ। এ বছর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ থেকে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ পাঁচ বছর আগে প্রার্থিতা দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকৌরিস এবং সর্বশেষ মার্চ মাসে প্রার্থী হওয়া জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। নির্বাচনটি ২০২৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা নজরে আসার পর বিগত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অবস্থানকালীন প্রধান উপদেষ্টা ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এ নিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর সকল সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়। সম্প্রতি নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনী দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ তাদেরকে লিখিতভাবে কিছু জানায়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি অফিসিয়ালি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক বলেন, ‘এ বিষয়ে স্যার কিছু না বলা পর্যন্ত মন্তব্য করা অসম্ভব।’

গতকাল জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের অফিসে লিখিত প্রশ্ন করা হয়। মুখপাত্র ফারহান আজিজ হক জানান, ‘এ বিষয়ে জাতিসংঘে আমরা বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে কিছু পাইনি—আপনি বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

২০১৬ সালে জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে সাইপ্রাস লড়েছিল, যেখানে ফিজির পিটার থমসন ৯৪-৯০ ভোটে জিতেন। সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস মাভরোইয়ানিসের পরাজয়ের ১০ বছর পর এবার আবার প্রার্থী হয়েছে। বাংলাদেশ শেষবার এই পদে ১৯৮৬ সালে জিতেছিল, যখন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতি হন।

এবার ফিলিস্তিনের রিয়াদ মনসুর প্রার্থী হয়ে নিজ উদ্যোগে লড়ছেন, যেহেতু ফিলিস্তিনে কার্যকর সরকার নেই। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, তিনি গাজার সংকটকে কাজে লাগিয়ে নিজের নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জাতিসংঘ সভাপতির হাতে ফিলিস্তিনের স্বার্থ আদায়ের কার্যকর টুল নেই।

আরও পড়ুন: গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের পূর্ণ সমর্থন

নিউইয়র্কে কূটনৈতিকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করছে। ফিলিস্তিনের মতো অ-সদস্যের প্রার্থিতা আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গত বছর মে মাসে সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনকে অতিরিক্ত অধিকার দিয়েছে, কিন্তু সভাপতি পদ স্পষ্টভাবে দেয়নি। মহাসচিব গুতেরেস বলেছেন, আইনি বাধা নেই।

গত বছর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যতা প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেস ফিলিস্তিনকে অতিরিক্ত মর্যাদা দেয়া সংস্থাগুলোর তহবিল কাটার আইন বিবেচনা করছে। ২৮ মার্চ মার্কিন মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রার্থিতার বিরোধিতা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *