যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ-01032-NewsEdge24

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের এক সপ্তাহের মাথায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ওমান উপকূলে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি এভার লাভলি’তে ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিশোধে দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দর ও কেশম দ্বীপের চারটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন। আমি এটা মোটেও পছন্দ করিনি।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা দ্রুতই জানতে পারবেন আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।” মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সহিংসতার জবাবে ‘কঠোর সহিংসতা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইব্রাহিম আজিজি বলেন, “এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নয়, বরং যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থাপনা।” তিনি আরও বলেন, আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে।

ইরানের খাতাম আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল ফিকার বলেন, “আজ রাতে তিনটি সংখ্যা মিলে গেলে হরমুজ প্রণালীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের পাল্টা আঘাত হবে নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী।” এরপরই ওমান উপসাগর সংলগ্ন মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক ‘ডিভোর্স’-এর দিকে যেতে পারে: ট্রাম্প

উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *