আজ ভোররাতে স্থানীয় সময় আনুমানিক ৩টায় (বাংলাদেশ সময় ১টা) ইসরাইলজুড়ে সাইরেনের শব্দ ও মোবাইল ফোনে সতর্ক বার্তায় ঘুম ভেঙেছে জনগণের। গুরুতর হুমকির ইঙ্গিতে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেমসহ দেশের প্রায় সব শহরে খাদ্য ও পানির মজুদ শুরু করেছে সাধারণ মানুষ, সুপারমার্কেটের তাক দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ ড্রোন ইসরাইলের দিকে পাঠিয়েছে, যা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ইসরাইলি জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে, হাসপাতালগুলো বাড়তি চাপ সামলাতে রোগীদের ছুটি দিচ্ছে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন জারি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী, সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সীমান্ত নজরদারি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ‘পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি’তে রয়েছে এবং ইরানের সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্কিত শিশুদের ছবি ও বাজারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ থাকলেও, ইরান বারবার বলছে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে, ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও পারমাণবিক কর্মকর্তারা নিহত হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত।
ইসরাইলের হামলায় নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জবাবে ইরান ড্রোন হামলা শুরু করেছে, যা ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইসরাইলকে এর কঠোর মূল্য দিতে হবে।
ইরান এই হামলাকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে পারে, যেখান দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ হয়। এরই মধ্যে তেলের দাম বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল বছরের পর বছর এই হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম ঐক্যের অভাবকে কাজে লাগিয়ে।
ইসরাইলের এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা গাজা, লেবানন, ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে। বিশ্ব নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত অঞ্চলের প্রতিটি দেশকে প্রভাবিত করবে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































