নেপালে বন্যা-ভূমিধসের মধ্যে ভাসমান ব্যাংক ভল্ট লুট -010-NewsEdge24

নেপালে চলমান ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পঞ্চম দিনে দেশজুড়ে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকলেও দুর্ঘটনার সুযোগে অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও নেপাল নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, রাসুয়া এলাকা থেকে ত্রিশূলী নদীর স্রোতে ভেসে আসা একটি ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত ভল্ট ধাদিংয়ে পৌঁছানোর পর সেটি ভেঙে নগদ অর্থ বের করার অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে নেপাল পুলিশ।

সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশের যৌথ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজনদের আটক করে। তাদের কাছ থেকে মোট ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র ডিআইজি অভি নারায়ণ কাফল জানিয়েছেন, আটক ২৯ জনকেই ধাদিং জেলা পুলিশ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে সোনার কানের দুল খুলে নেওয়ার অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ তাদের শনাক্ত করে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি কাঠের তক্তা ও নারীর চুল ধরে মরদেহটি পানির স্রোত থেকে টেনে তুলে কানের দুল খুলে একপাশে রাখছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ধারণ করছিলেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে।

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে বহু গ্রাম, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীতে নেমে আসায় পানি দ্রুত বেড়ে বিভিন্ন শহর ও জনপদ প্লাবিত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে উদ্ধারকাজের অনুমতি দিল নেপাল

ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। শনিবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, এটি প্রাথমিক অনুমান। পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পরের তুলনায় এবার কম অর্থ লাগতে পারে বলে তিনি মনে করলেও সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *