যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের পর অর্ডার স্থগিত করেছে ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন, টার্গেট এবং গ্যাপের মতো বৈশ্বিক রিটেইলাররা। এই শুল্কের প্রথম ধাপ হিসেবে ২৫% শুল্ক ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে, এবং অতিরিক্ত ২৫% আগামী ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে ইমেইল ও চিঠির মাধ্যমে চালান স্থগিত রাখার নির্দেশ পেয়েছেন। ক্রেতারা বাড়তি খরচের বোঝা ভাগাভাগি করতে অনিচ্ছুক, এবং রপ্তানিকারকদের এই খরচ বহন করতে বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩৬.৬১ বিলিয়ন ডলারের ২৮% অংশ নিয়ে গঠিত। নতুন শুল্কের ফলে পণ্যের দাম ৩০-৩৫% বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্রগামী অর্ডার ৪০-৫০% কমিয়ে দিতে পারে। এতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। ওয়েলস্পান লিভিং, গোকালডাস এক্সপোর্টস, ইন্দো কাউন্ট এবং ট্রিডেন্টের মতো বড় রপ্তানিকারকরা তাদের মোট বিক্রির ৪০-৭০% যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে অর্জন করে।
ক্লথিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার প্রধান পরামর্শক রাহুল মেহতা বলেন, “৫০% শুল্ক ভারতীয় পোশাকের দাম বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তুলনায় ৩০-৩৫% বাড়িয়ে দেবে। এতে অর্ডার হ্রাস, কারখানা বন্ধ এবং বেকারত্বের ঝুঁকি তৈরি হবে।” কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি (সিআইটিআই) জানিয়েছে, এই শুল্ক ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বাংলাদেশের জন্য সুযোগ
বাংলাদেশের ওপর মাত্র ২০% শুল্ক আরোপিত হওয়ায় ভারতের তুলনায় এটি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই শুল্ক বৈষম্যের কারণে মার্কিন ক্রেতারা বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো কম শুল্কের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকবে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ, এবং যুক্তরাষ্ট্র এর একক বৃহত্তম বাজার। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “ভারত ও চীনের তুলনায় কম শুল্কের কারণে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ক্রেতাদের ৩০% খরচ কমবে। এটি আমাদের ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।” তিনি আরও জানান, চীন থেকে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের প্রবণতা বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করবে।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে আর বাণিজ্য আলোচনা করবেন না ট্রাম্প
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় এই শুল্ক আরোপ “প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত”। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই শুল্ককে “অন্যায়, অযৌক্তিক এবং দুর্ভাগ্যজনক” আখ্যা দিয়ে বলেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ঐতিহ্যগত সরবরাহ ইউরোপের দিকে মোড় নেওয়ায় ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি শুরু করে। এই আমদানি ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্র তখন এটিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার জন্য উৎসাহিত করেছিল।
ভারত আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম, সার এবং রাসায়নিক পদার্থ আমদানি করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ২০২৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ৬৭.৫ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য বাণিজ্য এবং ২০২৩ সালে ১৭.২ বিলিয়ন ইউরোর সেবা বাণিজ্য করেছে। ভারতের মতে, এই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ “অযৌক্তিক”।














































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































