সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-newsedge4

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে বিশ্বে নিজের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহরণের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। ঠিক তখনই ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই, তার ‘নিজস্ব নৈতিকতাই’ যথেষ্ট।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না।” আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা তার জন্য বাধ্যতামূলক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি আইন মানেন, তবে সেটা আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কী, তার ওপর নির্ভর করে।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক হামলা চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামক এই অভিযানে ২৪ জন ভেনেজুয়েলান এবং ৩২ জন কিউবান নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি।

জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে ‘আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবেন এবং দেশটির বিশাল তেল খনির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, তিনি যদি ঠিক কাজ না করেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।

ট্রাম্পের এই নীতি কেবল ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইতিমধ্যে কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ডেনমার্কের মালিকানাধীন গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এই নতুন অবস্থানকে সমর্থন করে সিএনএনকে বলেন, “আমরা একটি পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব। বিশ্ব চলে শক্তি আর ক্ষমতার জোরে।”

আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক আদালতে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি মাদুরোর ; ‘অপহরণ’ বলে প্রতিবাদ

জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট আল-জাজিরাকে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনকে এভাবে তুচ্ছ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশ্ব হয়তো আবারও ‘সাম্রাজ্যবাদের যুগে’ ফিরে যাচ্ছে।” অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি চীনকে তাইওয়ান কিংবা রাশিয়াকে ইউক্রেন দখলে আরও উৎসাহিত করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *