ভারত-বাংলাদেশ পানিপথ-newsedge4

ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও পানিপথ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল সতর্ক করে বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ পানিপথ প্রটোকল রুটে (আইবিপি) বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে। এই রুট ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি প্রত্যাহার এবং নির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল ভারত বাংলাদেশকে দেয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে, যার ফলে বাংলাদেশ ভারতীয় স্থলবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না। এর জবাবে বাংলাদেশ ভারতীয় সুতা ও টেক্সটাইল পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়। ভারতও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য শুধু কলকাতা ও নাওয়াশেবা বন্দর খোলা রাখে। ফলে ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গের ফুলবাড়ি ও চ্যাংরাবান্ধাসহ ১১টি স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, তুলা এবং কাঠের আসবাব রপ্তানিতে।

সূত্র জানায়, আইবিপি রুটে পণ্য পরিবহন ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রজ জাহাজ এমভি গঙ্গা বিলাসও বাংলাদেশের জলসীমা এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত রুট বিবেচনা করছে। এই রুট গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, বরাক, যমুনা, মেঘনা ও গোমতী নদীর মাধ্যমে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ করে।

মন্ত্রী সনোয়াল জানান, পশ্চিমবঙ্গের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪.৪৭ মিলিয়ন টন ফ্লাই অ্যাশ রপ্তানি হয়, যা বন্ধ হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে। এছাড়া, বাংলাদেশের মংলা বন্দরে ভারতের জন্য নির্ধারিত ঘাট ব্যবহারের সুবিধাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই পরিস্থিতি ভারত-বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য সহযোগিতা ও সংযোগের ভবিষ্যতের ওপর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কূটনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিশোধমূলক নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সুত্রঃ দ্যা হিন্দু বিজনেসলাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *