আশরাফুল হত্যাকাণ্ডের-newsedge24

ঢাকার শনির আখড়ায় রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে ১০ লাখ টাকার ব্ল্যাকমেইল পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। মামলার প্রধান আসামি জরেজুল ইসলামের প্রেমিকা শামিমা আক্তার কোহিনুরের (৩৩) স্বীকারোক্তির আলোকে প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, “হত্যার পর একই ঘরে লাশ নিয়ে রাত্রিযাপন করেন জরেজ ও শামিমা। শামিমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনির আখড়া থেকে আশরাফুলের পায়জামা, পাঞ্জাবি, রক্তমাখা দড়ি, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তার মোবাইল থেকে বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি জব্দ করা হয়েছে।”

র‍্যাব আরও জানায়, আশরাফুলকে হত্যার পর লাশ গোপন করার জন্য জরেজুল চাপাতি ও দুটি ড্রাম সংগ্রহ করেন। পরদিন লাশ খণ্ড করে দুটি ড্রামে ভরে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে ফেলে যান তারা। মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় আছে কি না, তা জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদে পরিষ্কার হবে।

শুক্রবার সকালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড় বিজরা এলাকা থেকে শামিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হত্যার পরিকল্পনা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং লাশ গুমে পুরোপুরি সহযোগিতা করেছেন। প্রধান আসামি জরেজুলকে শুক্রবার রাত ১০টায় কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যার পর অটোরিকশায় করে তারা সায়দাবাদের দিকে যায়। পরে শামিমা কুমিল্লায় এবং জরেজুল রংপুর যাওয়ার পরিকল্পনা করে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

আরও পড়ুন: বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোববার থেকে কলমবিরতি

রংপুরের একই এলাকায় থাকার সুবাদে আশরাফুল ও জরেজুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। জরেজুলের মাধ্যমে আশরাফুলের পরিচয় হয় শামিমার সঙ্গে। ধীরে ধীরে আশরাফুল ও শামিমার মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জরেজুল যে বাসা ভাড়া নেয় দক্ষিণ ধনিয়ায়, সেখানে শামিমাও ওঠে। জটিল সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হলে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিরোধের জেরে জরেজুল আশরাফুলকে হত্যা করে। ঘটনার সময় শামিমা উপস্থিত ছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে নীল রঙের দুটি ড্রামে আশরাফুলের ২৬ টুকরা মরদেহ পাওয়া যায়। আঙুলের ছাপ নিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ১০ বছরের একটি মেয়ে ও সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

ধৃত শামিমা ও জরেজুলকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *