রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫০টি জায়গায় এয়ার পিউরিফায়ার স্থাপনের পরিকল্পনা প্রাথমিকভাবে প্রশংসনীয় হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করছেন বায়ুগবেষকরা। গত সোমবার গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনে এক পলিসি ডায়ালগে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। এইচডিসিটি ৫১০০০ মডেলের এই যন্ত্রগুলো প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ঘনফুট বায়ু পরিশোধন করতে সক্ষম এবং অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত শোষণ করতে পারে। তবে, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই প্রযুক্তির প্রভাব সীমিত এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, এবং বায়ুদূষণের মূল কারণগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া ঢাকার বাতাসের গুণগত মান উন্নত হবে না।
ঢাকার বায়ুদূষণ বিশ্বের অন্যতম গুরুতর সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র কণার (পিএম ২.৫) মাত্রা নিরাপদ সীমার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি, যা শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ ধূলিকণা, শিল্প নির্গমন এবং ইটভাটার দূষণ এই সমস্যার প্রধান উৎস। এয়ার পিউরিফায়ার উচ্চ জনসমাগম এলাকায় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
ডিএনসিসির এই উদ্যোগের ইতিবাচক দিক হলো এটি একটি পাইলট প্রকল্প, যার ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পৃষ্ঠপোষকদের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় সিটি করপোরেশনের আর্থিক বোঝা বাড়বে না। তবে, প্রতিটি যন্ত্রের ওজন ১৫০০ কিলোগ্রাম এবং ২২০ ভোল্ট বিদ্যুতের প্রয়োজন বিবেচনায় রক্ষণাবেক্ষণ ও শক্তি খরচ একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই ধরনের প্রযুক্তির পরিবর্তে বায়ুদূষণের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় জোর দেওয়া উচিত।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন। প্রথমত, যানবাহনের নির্গমন কমাতে বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুরোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা। দ্বিতীয়ত, নির্মাণ কাজে ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি প্রয়োগ। তৃতীয়ত, ইটভাটা ও শিল্প কারখানার জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা। এছাড়া, সবুজায়ন বৃদ্ধি, জনসচেতনতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে দূষণ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ জরুরি।
ঢাকার বায়ুদূষণ কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য হুমকি। এয়ার পিউরিফায়ারের মতো উদ্যোগ সাময়িক উপশম দিতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে সরকার, সিটি করপোরেশন এবং সুশীল সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মে দিবসের প্রেক্ষাপটে, যেমন শ্রমিক-মালিক ঐক্যের কথা বলা হয়, তেমনি বায়ুদূষণ মোকাবিলায় সকল পক্ষের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এই উদ্যোগকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।










































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































