ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-ওয়াগা সীমান্ত এবং আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান-newsedge24

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ পর্যটকের নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারতের কঠোর পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, ওয়াগা সীমান্ত এবং ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জন্য আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের বরাতে জানা গেছে, ভারতের “একতরফা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তান ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তিসহ সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্থগিত করেছে। এছাড়া, ওয়াগা সীমান্ত বন্ধ, ভারতীয় কূটনীতিকদের বহিষ্কার, এবং সার্ক ভিসা (শিখ তীর্থযাত্রী ব্যতীত) স্থগিত করা হয়েছে।

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) নামে একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে, যাকে ভারত পাকিস্তান-সমর্থিত লস্কর-ই-তৈয়বার ছদ্মনাম বলে দাবি করেছে। হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (১৯৬০) স্থগিত, আটারি-ওয়াগা সীমান্ত বন্ধ, এবং পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি এবং লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য।

পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে হামলায় শোক প্রকাশ করেছে। এনএসসি’র বিবৃতিতে ভারতের সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে “আইনি যোগ্যতাহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা যায় না বলে পাকিস্তান জানায়। তারা সিন্ধু নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ বা দিক পরিবর্তনকে “যুদ্ধের কাজ” হিসেবে গণ্য করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

পাকিস্তান ভারতীয় হাইকমিশনের স্টাফ সংখ্যা ৩০-এ নামিয়ে আনতে এবং প্রতিরক্ষা, নৌ ও আকাশ উপদেষ্টাদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের (শিখ ব্যতীত) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের সম্পর্ককে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *