শেহবাজ শরীফ-newsedge24

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির (এনসিএ) জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। এনসিএ পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক-সামরিক পরিষদ, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র এবং কৌশলগত সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে। এই বৈঠকের ঘোষণা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে।

শেহবাজ শরীফের এনসিএ বৈঠক আহ্বানের ঘোষণা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এনসিএ পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শুক্রবার বলেছেন, “পারমাণবিক বিকল্প এখনই টেবিলে নেই,” তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে “দর্শকরাও প্রভাবিত হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এনসিএ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করা এবং ভারতের হামলার জবাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা। তবে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে কোনো সিদ্ধান্ত অঞ্চলটিকে অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা উভয় দেশের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার বলেছেন, “যদি ভারত সংযত আচরণ করে, আমরাও তাই করব,” যা পরিস্থিতি ডি-এস্কেলেশনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনিয়ান-উল-মারসুস’ নামক পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে উভয় দেশ গত কয়েক দিনে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ভারত ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা পেহেলগামে ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়। পাকিস্তান এই হামলাকে “যুদ্ধের কাজ” আখ্যা দিয়ে শনিবার ভোরে ‘অপারেশন বুনিয়ান-উল-মারসুস’ শুরু করে, যার মাধ্যমে ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযানে ভারতের উধমপুর বিমানঘাঁটি, পাঠানকোট ও আদমপুর এয়ারফিল্ড, বিয়াসে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার, জি-টপে ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার, উরিতে সরবরাহ ডিপো, দেহরাঙ্গিয়ারিতে আর্টিলারি পজিশন এবং নাগ্রোটায় আরেকটি ব্রহ্মোস সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, এই হামলায় আল ফাতাহ এবং ফাতাহ-১ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা অমৃতসর, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহৃত ভারতীয় ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেছে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা এই দাবি আংশিকভাবে অস্বীকার করেছেন। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সোফিয়া কুরেশি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় উধমপুর, পাঠানকোট, আদমপুর, ভুজ এবং বাথিন্ডার বিমানঘাঁটিতে “সীমিত ক্ষতি” হয়েছে এবং কিছু সরঞ্জাম ও কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, পাকিস্তানের দাবি করা ভারতের এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসের বিষয়টি ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা “মিথ্যা” ও “প্রোপাগান্ডা” হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলে উভয় পক্ষকে সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বলেছেন, এটি “আঞ্চলিক সংঘাত” এবং যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সংলাপের পক্ষে।

চীন উভয় দেশকে শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান পাকিস্তানের সংযত প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করে দ্রুত ডি-এস্কেলেশনের আহ্বান জানিয়েছেন। জি-৭ দেশগুলো সর্বোচ্চ সংযম এবং সরাসরি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *