ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-newsedge24

ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কথা উল্লেখ করেছেন। শনিবার (৯ আগস্ট ২০২৫) মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।শারদ পাওয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করতে পারি না।

আজ পাকিস্তান আমাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপসহ দেশগুলোও আমাদের ওপর খুশি নয়। আমাদের প্রতিবেশীরা আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমার মনে হয় মোদি সাহেবের এই দিকটি উপেক্ষা করা উচিত নয় এবং সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ একটি চাপ কৌশল। দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের, ভারতের জনগণের, সরকারকে সমর্থন করা উচিত।” তবে তিনি মোদির পররাষ্ট্রনীতিকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলতে রাজি নন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার কর্মপদ্ধতি দেখেছি। আমার মনে হয় তার ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি যা মনে আসে তা আবেগঘনভাবে বলেন।”

ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কের বর্তমান চিত্র

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সমর্থনের কারণে। ২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। ২০১৫ সালের ভূমি সীমানা চুক্তি এবং অবকাঠামো প্রকল্পে ভারতের সহায়তা এই সম্পর্কের উদাহরণ। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো অমীমাংসিত।

আরও পড়ুন: ভারতে ওয়ালমার্ট এবং অ্যামাজনের মতো ব্রান্ডের অর্ডার স্থগিত

ভারত ও নেপালের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক গভীর। মুক্ত সীমান্ত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা এই সম্পর্কের ভিত্তি। তবে কালাপানি ও লিপুলেখ নিয়ে সীমান্ত বিরোধ এবং ২০১৫ সালে ভারতের অভিযুক্ত অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারত ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা প্রদান করে। তবে তামিল ইস্যু এবং চীনের হাম্বানটোটা বন্দরে প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারত শ্রীলঙ্কার উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে, তবে সম্পর্কে মাঝে মাঝে উত্তেজনা দেখা যায়।

ভারত ও মালদ্বীপের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিল। তবে ২০২৩ সালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচারণার পর সম্পর্কে ফাটল ধরে। যদিও মোদির সাম্প্রতিক মালে সফর সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে, চীনের প্রভাব এখনো উদ্বেগের কারণ। ভারত মালদ্বীপে অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করছে, যেমন গ্রেটার মালে সংযোগ প্রকল্প।

ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতি

২০১৪ সালে মোদি সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছিল। এই নীতির মূলনীতি হলো সম্মান, সংলাপ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি। ভারত এই নীতির আওতায় বাংলাদেশে রেল ও জলপথ সংযোগ, নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ভূটানে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মালদ্বীপে সুরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে পানি বণ্টন, সীমান্ত বিরোধ এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই নীতির পথে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শারদ পাওয়ারের পরামর্শ

শারদ পাওয়ার মনে করেন, ভারতের উচিত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো, যেমন তিস্তার পানি বণ্টন বা কালাপানি বিরোধ, সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি মোদি সরকারকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে সংবেদনশীল ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এও বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যেমন সিএএ বা এনআরসি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *