কাতারে ইসরায়েলের বিমান হামলা-newsedge24

কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। কাতার এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইসরায়েল হামলার দায় স্বীকার করলেও হামাস জানিয়েছে, এতে কেউ নিহত হয়নি।

হামাসের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হামলার সময় গোষ্ঠীটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সর্বশেষ গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনায় হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান ও শীর্ষ আলোচক খালিদ আল-হাইয়্যাসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দোহার লেগতিফিয়া পেট্রলস্টেশনের কাছে একটি ছোট আবাসিক মহল্লায় বিস্ফোরণ ঘটে, যেখান থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এই এলাকাটি কাতারের আমিরের গার্ড ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিয়ে আসছিল।

মিডলইস্ট আই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোহায় অন্তত ১২টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর কাতারা ডিস্ট্রিক্ট থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। বিস্ফোরণের প্রায় এক ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্সসহ ১৫টির বেশি পুলিশ ও সরকারি গাড়ি ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনের গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর ছাড়াও লেবানন, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন এবং কাতারে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইসরায়েল নিয়মিত হামলা চালালেও কাতার ও তিউনিসিয়ায় এটি নজিরবিহীন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের (জিসিসি) কোনো দেশে ইসরায়েলের এই প্রথম হামলা, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

জিসিসি সদস্য দেশগুলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান—যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইসরায়েলের পরীক্ষিত সমর্থক। কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম আঞ্চলিক বিমানঘাঁটি আল উদেইদ অবস্থিত, যেখানে ৮,০০০-এর বেশি মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তা রয়েছেন। এই ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করে। তবে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: নেপালে বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী ওলি’র পদত্যাগ

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসরায়েলের এই হামলা কাতারের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা। আমরা এই কাপুরুষোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এর জবাবদিহি দাবি করি।” হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় কোনো নেতা হতাহত হননি, তবে এটি যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বাধা সৃষ্টির ইসরায়েলি প্রচেষ্টা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *