ইরান-ইসরায়েল-newsedge24

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে কড়া জবাব দিলেও, সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান এখনো তার নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেনি। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৩ জুন, ২০২৫) ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকায় আগ্রাসী হামলা চালায়, যাতে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন।

ইসরায়েলের এই হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’র অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন, ২০২৫) পর্যন্ত ১৩ দফায় ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ৩০০টির বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও রকেট নিক্ষেপ করেছে। এই হামলাগুলো তেল আবিব, হাইফা ও জেরুসালেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিল।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ১০টি বৈশিষ্ট্য ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন আয়রন ডোম, প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। বিশেষ করে, ইরানের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ৮০% লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়। তবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এখনো তার অত্যাধুনিক নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ করেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানের এই হামলাগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করলেও, সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনো মাঠে নামলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। এই হামলার ফলে ইসরায়েলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। তবে, এই তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উত্তেজনা প্রশমনে কী ভূমিকা নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *