Netanyahu-নেতানিয়াহু-newsedge24

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর বিশিষ্ট কলামিস্ট ও বিশ্লেষক গিডিওন লেভি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া এবং এর প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারেন। এই সম্ভাবনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর জোটের জন্য গভীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ নেতানিয়াহু চান ট্রাম্প দ্রুত এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুন।

লেভি বলেন, “এই বাস্তবতায় দুই সপ্তাহ মানে অনন্তকাল। যদি ট্রাম্প সত্যিই দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে চান এবং এটা কোনো ছলচাতুরী না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ইসরায়েল যদি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম হয়, তবুও এটি দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। লেভি বলেন, “কিছুই সমাধান হবে না। কারণ, ইরান তার সক্ষমতা পুনরায় অর্জন করতে পারবে।” তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলের আরও অনেক নিরাপত্তা সমস্যা রয়েছে, যেমন গাজার চলমান সংকট, যা শেষ হচ্ছে না।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যাকে তারা “প্রতিরোধমূলক আঘাত” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত। এই সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও, ইসরায়েলের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে “হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সোচ্চার। তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন, যা ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন, যা নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *