আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-newsedge24

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় শনিবার ভোরে তিনি নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শহীদ হন। এ ঘটনায় তার মেয়ে, জামাতা এবং নাতনিও নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্স।

দেশটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং তার শোকে মুহ্যমান। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে তার শহীদ হওয়া এই মহান নেতার বৈধতার প্রমাণ এবং তার আন্তরিক সেবার প্রতি জনগণের স্বীকৃতির নিদর্শন।”

আইআরজিসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত তাদের ছাড়বে না।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন এবং জাতীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধ।

ইরান সরকার ঘোষণা করেছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতের পর ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। একই সঙ্গে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে ট্রাম্পের হামলা অবৈধ ও অসাংবিধানিক: মার্কিন সিনেটর

এদিকে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। অনেকেই কান্নাকাটি করছেন, হাতে খামেনির ছবি নিয়ে “প্রতিশোধ, প্রতিশোধ” স্লোগান দিচ্ছেন। আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতার, সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *