যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের তৃতীয় দিনে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি আগুনে জ্বলতে জ্বলতে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় নিচে পড়ছে—ঘাঁটি থেকে প্রায় ছয় মাইল দূরে। পাইলট জরুরি ইজেকশন করে নিরাপদে প্যারাশুটে অবতরণ করেছেন এবং স্থানীয়রা তাকে সহায়তা করেছেন। তবে দ্বিতীয় ক্রু সদস্য (অস্ত্রব্যবস্থা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা) এর অবস্থা এখনও অজানা।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকালে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, কিন্তু সব ক্রু সদস্য নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন। সিএনএন-সহ আন্তর্জাতিক মিডিয়া ভিডিও জিওলোকেট করে নিশ্চিত করেছে যে বিধ্বস্ত বিমানটি আল জাহরা এলাকায়, আলি আল সালেম ঘাঁটির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। এটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বলে নিশ্চিত হয়েছে, যা দ্বৈত ইঞ্জিনযুক্ত এবং আগুন ও ধোঁয়ায় ঘিরে পড়ছে।
বিধ্বস্তের কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই। কিছু সূত্র দাবি করছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে ভূপাতিত হয়েছে, অন্যরা বলছে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটেছে—যেহেতু ইরানের মিসাইল হামলার সময় আকাশে ব্যাপক প্রতিরক্ষা চালু ছিল। কারিগরি ত্রুটির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পেন্টাগন বা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ প্রকাশ করেনি; তদন্ত চলছে।
এই ঘটনা যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এর আগে রোববার প্রথম মার্কিন হতাহত নিশ্চিত হয়—তিন সেনা নিহত, পাঁচজন গুরুতর আহত। এসব হতাহত কুয়েতভিত্তিক মার্কিন বাহিনীর মধ্যে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় নিহতদের ‘সত্যিকারের আমেরিকান প্যাট্রিয়ট’ বলে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে—এটি চার সপ্তাহ বা তার কম সময় নিতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযান সময়সূচির আগেই এগোচ্ছে এবং ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের পাল্টা হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর সংঘাত ছড়িয়েছে লেবাননে—হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার জবাবে ইসরায়েল সোমবার হামলা চালিয়েছে। ইরান কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, যার ফলে ধোঁয়া ও আগুন দেখা গেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কয়েকটি মিসাইল আটকে দিয়েছে, কিন্তু ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।









































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































