রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ-newsedge4

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিভাজন সৃষ্টি করা। বৃহস্পতিবার বিবিসির প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রদূতদের এক গোলটেবিল বৈঠকে ইউক্রেন সংকট, তথ্য নিরাপত্তা ও ডিজিটাল হুমকি নিয়ে আলোচনাকালে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের মধ্যেই মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এই হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুসারে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেসামরিক নাগরিক, শিশু এবং শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারাও রয়েছেন। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে।

ল্যাভরভের এই মন্তব্য রাশিয়ার অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। মস্কো বারবার বলে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা দেখেনি। তাই এই হামলাকে তারা আগ্রাসন হিসেবে দেখছে। রাশিয়া ও চীন উভয়েই যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: আলোচনার টেবিলেই ট্রাম্প কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে: আরাঘচি

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা বিভিন্ন স্থাপনায় ২৩০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান অন্যতম। আইআরজিসি এটিকে চলমান যুদ্ধে তাদের ‘প্রথম শক্তিশালী পদক্ষেপগুলোর’ একটি বলে বর্ণনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *