চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-newsedge24

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানে সরকার পরিবর্তন বা ‘কালার রেভল্যুশন’-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যবস্থা উল্টে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা জনসমর্থন পাবে না বলে সতর্ক করেছে চীন। বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক বৈঠকের সাইডলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, “শক্তি কোনো সমাধান নয়, সশস্ত্র সংঘাত শুধু ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে। এ যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না এবং কারও জন্যই ভালো নয়।”

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি, রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ওয়াং ই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। অঞ্চলের বিষয়গুলো সেখানকার জনগণ ও দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে দিতে হবে। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।

ওয়াং ই আরও বলেন, “শক্তিশালী বর্জ্রমুষ্টি মানেই শক্তিশালী যুক্তি নয়। পৃথিবীকে আবার জঙ্গলের আইনে ফিরে যেতে দেওয়া যাবে না।” তিনি সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান। চীন আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, সেখানকার মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে বেইজিং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। ওয়াং ই বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখনো “দৃঢ় এবং অটুট”। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার অভিযোগে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা সত্ত্বেও এই সম্পর্ক অটুট রয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় পরিসরে সামরিক হামলা চালালেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতা কাঠামো উৎখাত করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে দুর্বল করে দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তিনি ইরানের নেতৃত্ব সরিয়ে নিজের পছন্দের উত্তরসূরি বসাতে পারবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ফলাফল মোটেও নিশ্চিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *