জেডি ভ্যান্স-010235-NewsEdge24

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রিপাবলিকানদের শিবিরে যেন ঝড় উঠেছে। দলটির শোচনীয় পরাজয়ের পর নেতারা একে অপরকে দোষ দিয়ে শুরু করেছেন, কিন্তু এত বড় ব্যবধানের পরাজয় তাদের কোণঠাসা করে ফেলেছে। আত্মসমালোচনার সুরও নরম হয়ে এসেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি ৬১৪ শব্দের এক দীর্ঘ পোস্টে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন—রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির আসল কারণ ইরান যুদ্ধ। তার মতে, এই কারণটি প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট ছিল। ভোটের রাতে ট্রাম্প নিজেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

ভ্যান্স লিখেছেন, রিপাবলিকান সমর্থকদের উপস্থিতি কম ছিল না। সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে চলে গেছেন। চলমান ইরান যুদ্ধ, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত দাম এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক—এসব নিয়ে ভোটাররা চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন।

সেনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কেউ যদি বলেন এই যুদ্ধ সার্থক ছিল এবং আগামী ছয় বছরের জন্য সেনেট হারানো এর উপযুক্ত মূল্য, তাহলে অন্তত সততা থাকবে। কিন্তু পরাজয়ের আসল কারণ যে যুদ্ধ, তা অকপটে স্বীকার করতেই হবে। যারা আগে থেকে সতর্ক করেছিলেন, তাদের উদ্দেশে ভ্যান্স বলেছেন, “আপনারা ঠিক ছিলেন।”

ক্ষুব্ধ ভোটারদের আস্থা ফেরাতে তিনি চার দফা সুপারিশ দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া, আমেরিকাকে সবার আগে রাখা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে পরিবর্তন আনা—এই চারটি পথ।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসাবে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সাইয়েদ

পোস্ট প্রকাশের আগে ভ্যান্স হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প এতে ইতিবাচক সায় দিয়েছেন। তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, “ভ্যান্সের প্রতিটি কথাই শতভাগ সত্য।” পরে বলরুম পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প ভ্যান্সের মূল্যায়নকে মূলত সঠিক বলে স্বীকার করেছেন এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কথাও মেনে নিয়েছেন। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান অনড় রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *