ট্রাম্প-নেতানিয়াহু-newsedge24

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানো থেকে তারা বিরত থাকবে। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, ইসরাইলের সরকার এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে যুদ্ধবিরতির ‘লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য করে ইসরাইল তেহরানের নিকটবর্তী একটি রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইরান স্থানীয় সময় সকাল ৭:০৬ এ একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০:২৫ এ আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপ করে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ঘটে। এর জবাবে ইসরাইল তেহরানের কাছে একটি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। তবে, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর ইসরাইল আরও হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

ফোনালাপে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ইসরাইল তার যুদ্ধের সকল লক্ষ্য পূরণ করেছে। তিনি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পও এই যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি ইরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ চান না, কারণ এটি অঞ্চলে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করতে পারে।

১২ দিনের সংঘাতের পর সোমবার (২৩ জুন, ২০২৫) ট্রাম্প ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা কাতারের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইল অভিযোগ করে, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরাইল তেহরানের রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়, যদিও এটিকে ‘প্রতীকী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প ইসরাইলকে হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, তিনি অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাত চান না। ইরান অবশ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তাদের হামলা ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কালাস এই যুদ্ধবিরতিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের জন্য টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে সব পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামও এই যুদ্ধবিরতির প্রশংসা করে বলেছেন, এটি অঞ্চলকে নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করেছে। এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *