নেপালে সুশীলা কার্কি-newsedge24

নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে তীব্র গণআন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওডেলের পদত্যাগের পর দেশটি এখন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। সেনাবাহিনী এবং জেন-জি আন্দোলনের তরুণ নেতারা দফায় দফায় বৈঠকের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও বাকি।

নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কাঠমান্ডু, পোখারা, বুটওয়াল এবং বিরগঞ্জের মতো শহরগুলোতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। এই আন্দোলন নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং তার মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওডেলও পদ ছাড়েন, ফলে দেশটি সরকারবিহীন অবস্থায় পড়ে। নেপাল সেনাবাহিনী, জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের নেতৃত্বে, বর্তমানে শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম এবং একমাত্র নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন (২০১৬-২০১৭)। তিনি তার সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, যা তাকে তরুণ আন্দোলনকারীদের কাছে নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। জেন-জি আন্দোলনকারীরা একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে (ডিসকর্ড প্ল্যাটফর্মে) ভোটের মাধ্যমে তার নাম চূড়ান্ত করেছে।

আরও পড়ুন: ভারতবিরোধিতার জন্যই ক্ষমতা হারিয়েছি: কেপি শর্মা ওলি

কার্কি বলেছেন, “আমার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে আন্দোলনে নিহত তরুণদের পরিবারকে সমর্থন করা এবং দেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং শক্তিশালী। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীজিকে নমস্কার জানাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *