শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫, কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ইতিহাস সৃষ্টি করে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এই বিপুল অর্থের পাশাপাশি সোনা-রুপার গহনা, বিদেশি মুদ্রা এবং হাজারো মানতের চিরকুট পাওয়া গেছে। সকালে মসজিদের ১১টি দানবাক্স খোলার পর এই তথ্য প্রকাশ পায়, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শনিবার সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। খোলার প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মসজিদ কমিটির সভাপতি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাগলা মসজিদ মাদরাসা ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মোট ২৮৬ জন ছাত্র এবং রূপালী ব্যাংকের ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৩৬৬ জন টাকা ভাজ করা ও গণনার কাজ করেন। গণনা শেষে সন্ধ্যার দিকে মোট অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করা হয়।
এবার চার মাস ১২ দিন পর এ মসজিদের দানবাক্সেগুলো খোলা হয়। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৩০শে নভেম্বর দানবাক্সে খোলা হয়েছিল।
দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত সম্পদের তালিকা নিম্নরূপ:
৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এছাড়া সোনা ও রুপার অলংকার, যার মধ্যে আংটি, কানের দুল, নেকলেস এবং মার্কিন ডলার, সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, ইউরো, এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতসহ বিভিন্ন মুদ্রা রয়েছে।
পাগলা মসজিদের ঐতিহ্য:
পাগলা মসজিদ শতাব্দীপ্রাচীন একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যা কিশোরগঞ্জের একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই মসজিদে দানবাক্সে অর্থ দান করার প্রথা দীর্ঘদিনের। প্রতি তিন মাস অন্তর দানবাক্স খোলা হয়, এবং সংগৃহীত অর্থ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। গত কয়েক বছরে সংগ্রহের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১ সালে ৬ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৭ কোটি টাকা সংগ্রহের তুলনায় এবারের ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা একটি নতুন মাইলফলক।
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এই বিপুল অর্থ সংগ্রহ জনগণের গভীর ধর্মীয় আস্থা ও উদারতার প্রমাণ। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এখানে দান করলে তাদের মানত পূর্ণ হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে দান করেন, এমনকি বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসীরাও এই প্রথায় অংশ নেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পাগলা মসজিদ আমাদের গর্ব। এখানে দান করা মানুষের মনে শান্তি আনে।
প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির বক্তব্য:
জেলা প্রশাসক: এই বিপুল অর্থ জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা নিশ্চিত করব যে এই অর্থ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে জনকল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
মসজিদ কমিটির : এই অর্থ দিয়ে আমরা মসজিদের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্রদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। জনগণের এই অবদান আমাদের জন্য বড় দায়িত্ব।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর নেতৃত্বে দান সিন্দুক খোলা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন আক্তার এবং ওয়াক্ফ হিসাব নিরীক্ষক মো. আলাউদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ মিয়া, রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।











































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































