বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, যারা দেশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বা স্বাধীনতার মূল্যায়ন করে না, তাদের সঙ্গে চলতেও চান না তিনি, এমনকি এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তেও চান না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচার মেলা মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির (এমআরইউ) দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সাংবাদিক, রিপোর্টার ও মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে, তাদের সঙ্গে চলতেও চাই না, তাদের সঙ্গে এক কাতারে বসে নামাজও পড়তে চাই না।” তিনি আরও যোগ করেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণের বহুল আকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু এই নির্বাচন বানচাল করার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সাবেক এই মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। মিছিল করেছেন, জেল খেটেছেন। কিন্তু অনেকে এখন সেই ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করতে চান না। তারা মনে করেন, স্বাধীনতা একদিনে বা এক মাসে এসে গেছে।

তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “অনেকে ’৭১ সালের স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে চান না। যারা ’৭১-এর স্বাধীনতা মানতে চান না বা স্বীকার করেন না, তারা রাজাকারের দল ছাড়া আর কিছুই নয়। একমাত্র রাজাকাররা, পাকিস্তানপন্থিরা স্বাধীনতাযুদ্ধ স্বীকার করেনি। তারা এখন বলতে চায়, ওই স্বাধীনতা স্বাধীনতা না, দ্বিতীয় স্বাধীনতা হয়েছে। আমি বলি, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে বাংলাদেশে কিছু নেই। স্বাধীনতা একবারই আসে। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং যুদ্ধে জয়লাভ করেছি।”

এছাড়া তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, এই শক্তি দেশকে আবার অন্ধকারে নিয়ে যেতে চায়। বিএনপি ও জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে এসব চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে। সভায় অন্যান্য বক্তারা সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দাবি তুলে ধরেন এবং মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *