ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্থান পেলেন টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায়-newsedge24

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন ২০২৫ সালের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। বুধবার প্রকাশিত ‘টাইম-১০০’ তালিকায় তিনি ‘লিডার’ ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছেন। তালিকায় তাঁর পাশাপাশি রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া সেইনবোম এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৪ বছর বয়সী ড. ইউনূস এই তালিকার সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার ধারণা প্রবর্তন করেন, যা বিশ্বব্যাপী লাখো মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। ২০০৬ সালে এই অবদানের জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। প্রতিবেদনে তাঁর নারী ক্ষমতায়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ড. ইউনূস সম্পর্কে লেখা এক প্রবন্ধে বলেন, “২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর ড. ইউনূস দেশকে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য গর্বের এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ড. ইউনূস শুধু অর্থনৈতিক বিপ্লবই ঘটাননি, বরং সামাজিক পরিবর্তন ও মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটে তিনি তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করছেন। ছাত্রদের আহ্বানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন।

ড. ইউনূস বলেন, “এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য, যারা গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য অক্লান্ত লড়াই করছে। আমরা একটি ন্যায্য, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে একসঙ্গে কাজ করে যাব।”

টাইম ম্যাগাজিন ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি বছর এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে, যা বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *