চট্টগ্রাম-মেট্রোপলিটন-পুলিশ-সিএমপি-newsedge24

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের ওয়াকিটকিতে দেওয়া গোপন বক্তব্য ফাঁসের অভিযোগে অমি দাশ নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৭ আগস্ট ২০২৫) দিবাগত রাতে খুলশী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট ২০২৫ দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রামের সল্টগোলা ক্রসিং–ইশান মিস্ত্রি হাট এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার পরদিন, ১২ আগস্ট রাতে, কমিশনার হাসিব আজিজ ওয়াকিটকিতে সিএমপির সব ইউনিটের উদ্দেশে কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি থানার মোবাইল পার্টি, পেট্রোল পার্টি, ডিবি টিম ও চেকপোস্ট পার্টি লাইভ অ্যামুনিশন ও অস্ত্রসহ ডিউটিতে যাবে। কেবল রাবার বুলেট দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পুলিশ টহল দলের সামনে কেউ অস্ত্র বের করলে, তা ধারালো হোক বা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলির মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। আত্মরক্ষার অধিকার ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি পুলিশ সদস্যের আছে। সরকারি গুলির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”

আরও পড়ুন: কোনো চাঁদাবাজকে দেশে থাকতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কমিশনারের এই সংবেদনশীল বক্তব্যের একটি ৩ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা রেকর্ড করেছিলেন অমি দাশ। তিনি সিএমপি পুলিশের টেলিকম ইউনিটের কনস্টেবল এবং প্রেষণে খুলশী থানায় কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়, এবং তিনি রাজিব দাশের পুত্র।

এই বক্তব্য ফাঁস হওয়ায় চট্টগ্রামের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা অস্বস্তিতে পড়েন। গোপনীয় বার্তা বাইরে চলে যাওয়ায় সিএমপি তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক টিমের তদন্তে অমি দাশকে শনাক্ত করা হয়। সিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এই ঘটনা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *