বাংলাদেশে ইন্টারনেটের দাম তিন স্তরে কমছে-newsedge24

বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবার মূল্য তিনটি স্তরে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সোমবার ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। ‘ফাইবার অ্যাট হোম’ কর্তৃপক্ষও ইতিমধ্যে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে।

ফয়েজ আহমদ জানান, ইন্টারনেটের মূল্য হ্রাস হবে তিনটি স্তরে: আইটিসি (ইন্টারনেট ট্রান্সমিশন কোম্পানি) পর্যায়ে ১০ শতাংশ, আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) পর্যায়ে ১০ শতাংশ এবং এনটিটিএস (ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন সার্ভিস) পর্যায়ে ১৫ শতাংশ। এর আগে আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস এর পরিবর্তে ১০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি আন্তর্জাতিক গেটওয়ে পর্যায়ে আইআইজি ও আইএসপি গ্রাহকদের জন্য ১০ শতাংশ এবং পাইকারি গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ মোট ২০ শতাংশ দাম কমিয়েছে। ফলে ইন্টারনেট লাইসেন্স রেজিমের তিন থেকে চারটি স্তরে মূল্য হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে, তিনটি বেসরকারি মোবাইল সেবাদাতা কোম্পানি—গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংক—এখনো দাম কমানোর ঘোষণা দেয়নি। সরকার ইতিমধ্যে এই কোম্পানিগুলোকে ডিডব্লিউডিএম (ডেনস ওয়েভলেংথ ডিভিশন মাল্টিপ্লেক্সিং) এবং ডার্ক ফাইবার সুবিধা প্রদান করেছে, যা তাদের পরিচালনা খরচ কমাতে সহায়ক। ফয়েজ আহমদ আশা প্রকাশ করেন, এই সুবিধার ফলে মোবাইল অপারেটররা শিগগিরই গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেটের দাম কমাবে।

এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবাকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। তবে, মোবাইল ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্য নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি, যদিও সরকার ব্যান্ডউইডথের দাম ও ভ্যাট হ্রাস করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *