ইন্টারনেট বন্ধ করে অপরাধকে বৈধতা দিচ্ছে ইসি: জামায়াত আমির

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার জন্যই ইসি ইন্টারনেট বন্ধের মতো ‘অন্ধকার পথ’ বেছে নিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে এখন নির্বাচনকে ‘অপহরণ’ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই জনসভা ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে, যেখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি ইসির সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা এবং ইন্টারনেট-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ।

ডা. শফিকুর রহমানের মতে, আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এগুলো বন্ধ করে দিলে ভোটাররা কীভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন, জরুরি প্রয়োজনে সাহায্য চাইবেন—এসব প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এটা ভোটারদের ভয় দেখানোর একটা কৌশল। ইসি চাইছে অন্ধকারে কাজ করতে, যাতে কোনো অপকর্ম লুকিয়ে রাখা যায়।”

তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচনে জিততে পারবে না বলে জানে, তারাই এখন হতাশ হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার পথ খুঁজছে। “একটা পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে এতটাই হতাশ যে, তারা চোরাই পথে নির্বাচনকে হাইজ্যাক করতে চাইছে,”—এই মন্তব্যে তিনি সরাসরি কোনো দলের নাম না নিলেও রাজনৈতিক মহলে এর তাৎপর্য স্পষ্ট।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা এসব বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন। ডা. শফিকুর রহমান এ সময় ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “এখন থেকেই ভোটের পাহারাদারি শুরু করতে হবে। কোনো জালিয়াত বা ভোটচোর যেন জনগণের কপাল নিয়ে খেলতে না পারে, তা রুখে দিতে হবে।”

এই বক্তব্য নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এসেছে, যখন ভোটারদের মধ্যে নানা শঙ্কা ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ইসির পক্ষ থেকে এখনো এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের কথাবার্তা ভোটের আগের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *