মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১০টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ জন শিশু।

সারাদেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক শিশুর প্রাণহানি এবং প্রতিদিন হাজারো নতুন রোগী শনাক্তের ঘটনা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের ওপর এক প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ হামের চেনা রূপ পেরিয়ে এই রোগটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বছরের এই সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক না হলেও, এবারের সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুর হার অতীতের যেকোনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে টিকাদানের ঘাটতি এবং পুষ্টিহীনতাকে দায়ী করছেন অনেকে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও শহরের বস্তি এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি আশানুরূপ না হওয়ায় শিশুরা দ্রুত এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার বাইরে থেকে যাওয়া (ড্রপ আউট) শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং কভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানের ধারাবাহিকতায় যে ছন্দপতন ঘটেছিল, তারই চরম খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। তাছাড়া, অপুষ্টির শিকার শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা এই ভাইরাসের সহজে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ৮৮ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেলেও, ৪৬৭ জনের মৃত্যুর পেছনে হামের তীব্র উপসর্গ ও পরবর্তী জটিলতাই দায়ী, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *