চারুকলায় ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব পোড়ানোর ঘটনা এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বক্তব্য

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা একটি মোটিফ, যা ‘ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব’ হিসেবে পরিচিত এবং শেখ হাসিনার মুখাকৃতির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, তা অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায়। এই ঘটনার পাশাপাশি শান্তির প্রতীক হিসেবে নির্মিত একটি ‘পায়রা’ মোটিফও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়, এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বক্তব্য:
১২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনার জন্য “হাসিনার দোসরদের” দায়ী করেন। তিনি লিখেন,

“হাসিনার দোসররা গতকাল ভোর রাতে চারুকলায় ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব পুড়িয়ে দিয়েছে। এই দুঃসাহস যারা দেখিয়েছে—  তারা আওয়ামী লীগ হোক বা আওয়ামী বি টিম হোক—তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আসতে হবে, দ্রুত। এই শোভাযাত্রা থামানোর চেষ্টায় আওয়ামী লীগের হয়ে যারা কাজ করছে, আমরা শুধু তাদেরকে আইনের আওতায় আনব তা না, আমরা নিশ্চিত করতে চাই এবারের শোভাযাত্রা যেন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়।”

তিনি আরও বলেন যে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, “বাংলাদেশের মানুষ এক হয়ে উৎসব করুক, তা হাসিনার সমর্থকরা চায় না।” তিনি শোভাযাত্রায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা এখন আরও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং আরও বেশি সংখ্যায় অংশ নেব।”

ফারুকী আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই আন্দোলনের অনেকে এই শোভাযাত্রাকে “অন্তর্ভুক্তিমূলক” করার পক্ষে ছিলেন এবং ফ্যাসিবাদের প্রতীকটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এই ঘটনার পর তিনি মনে করেন, “এই দানবের উপস্থিতি আরও অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।”

ঘটনার বিবরণ:

  • সময়: ১২ এপ্রিল, ২০২৫ ভোর ৫টার দিকে।
  • ঘটনাস্থল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
  • ক্ষয়ক্ষতি: ‘ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব’ নামে পরিচিত মোটিফটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, এবং পাশে থাকা ‘শান্তির পায়রা’ মোটিফের অর্ধেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • প্রশ্ন: আগুন লাগার কারণ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই মোটিফ নির্মাণের খবরে আগে থেকেই ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা ছিল।
  • নিরাপত্তা ত্রুটি: প্রক্টরিয়াল টিমের একজন সদস্য জানিয়েছেন, রাত ৮টার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে কেউ ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক:

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার সাথে একমত হয়ে এই ঘটনাকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। বিপরীতে, কেউ কেউ এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন, এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগেই সামাজিক মাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে এই মোটিফটি নষ্ট করা হতে পারে। তারা প্রশাসনের কাছে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলেন।

শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য:
এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল “নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান”। এই মোটিফটি জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করেছিল।

পরবর্তী প্রতিক্রিয়া:

  • ফারুকী জানিয়েছেন, এই ঘটনা শোভাযাত্রাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করবে। তিনি আইনের আওতায় দোষীদের আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি উঠেছে।
  • শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোভাযাত্রায় ব্যাপক অংশগ্রহণের আগ্রহ বেড়েছে।

চারুকলায় ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব পোড়ানোর ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির একটি স্পর্শকাতর বিষয়  এটি শুধু একটি শিল্পকর্মের ক্ষতি নয়, বরং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে শোভাযাত্রার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

 

মার্চ ফর গাজা: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ, মূল আয়োজন শুরু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *