পলাশ সাহা-newsedge24

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে র‍্যাব–৭ ক্যাম্পে নিজ কক্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া র‍্যাব কর্মকর্তা পলাশ সাহার (৩৭) আত্মহত্যার ঘটনায় শোকের মাতম চলছে তাঁর গ্রাম গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। বুধবার দুপুরে তাঁর মরদেহের পাশে পাওয়া একটি চিরকুটে পলাশ নিজের মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী করে মা ও স্ত্রীকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছেন। র‍্যাবের প্রাথমিক ধারণা, তিনি নিজের পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় র‍্যাব–৬–এর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে পলাশের লাশ কোটালীপাড়া উপজেলার তাড়াশি গ্রামে পৌঁছায়। তাঁর বাড়িতে সহপাঠী, প্রতিবেশী ও স্বজনরা ভিড় করেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর ধর্মীয় আচার শেষে মরদেহ পাড়কোনা মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে গার্ড অব অনার ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

পলাশের মা আরতী সাহা ছেলের কপালে চুমু খেয়ে বিলাপ করে বলেন, “তোরা আমাকে আমার বাবার কাছে নিয়ে যা। আমি বাবাকে একটু ছুঁয়ে দেখি। কী অভিমানে বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেল।” পলাশের বড় বোন রমা সাহা, মেজ ভাই নন্দলাল সাহা ও বড় ভাই লিটন সাহার স্ত্রী বাড়ির সামনে আহাজারি করছিলেন।

নন্দলাল সাহা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে পলাশ ছিলেন সবার ছোট ও আদরের। কোটালীপাড়া থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন শুরু করেন সাব–রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক, ৩৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার এবং ৩৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পান। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর তাঁকে র‍্যাবে পাঠানো হয়।

দুই বছর আগে ফরিদপুরের সুস্মিতা সাহার সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয়। নন্দলাল জানান, বিয়ের দুই মাস পর থেকে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। পলাশ মা ও স্ত্রীকে একসঙ্গে রাখতে চাইলেও স্ত্রী তা মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে ঝামেলা হতো। নন্দলাল বলেন, “মা বাসায় না থাকলে পলাশ কষ্ট পেত। বাসায় থাকলে স্ত্রী সহ্য করতে পারত না। এখন ভাই চলে গেল, আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেল।”

চিরকুটে পলাশ লিখেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর। তাঁরা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে, তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো–অর্ডিনেট করে।”

পলাশের বাল্যবন্ধু আরিফ হোসেন বলেন, “পলাশ লেখাপড়ায় মেধাবী ও বন্ধুদের সঙ্গে আন্তরিক ছিল। তার অকালমৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *