রমনা বটমূল বোমা হামলা-newsedge24

প্রায় দুই দশক আগে, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায় হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (১৩ মে ২০২৫) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিন ও জুয়েলের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেছে। এছাড়া, জজ কোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৯ জন আসামির সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

২০০১ সালের ওই হামলায় ঘটনাস্থলে ৯ জন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ একই দিন রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন বিচারিক আদালত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে। এরপর ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের জেল আপিল এবং ফৌজদারি আপিলের শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে পৌঁছায়।

মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নান ছিলেন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী (হুজি)-এর নেতা। তিনি সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলাসহ একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। এই মামলাতেও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

হাইকোর্টের এই রায়ে মোট ১১ জন আসামির সাজা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, প্রমাণের ভিত্তিতে তাজ উদ্দিন ও জুয়েলের মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবনে রূপান্তর করা হয়েছে, কারণ তাদের সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্য ৯ আসামির ক্ষেত্রে হাইকোর্ট মনে করেছে, তাদের ভূমিকা সহায়ক ছিল, তবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের মতো কঠোর সাজার প্রয়োজন নেই।

এই হামলার পেছনে হুজির পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভীতি সৃষ্টি ও জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো। রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে, তবে সাজা নির্ধারণে ন্যায়বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *